সন্তানকে সম্পদ করে তোলার ছোট্ট একটি ধাপ। মার্শম্যালো টেস্ট। Marshmallow Experiment.
যে সব প্রশ্ন আমাদের ভাবিয়ে তোলে...
১. আমাদের সন্তান ঠিকঠাক পড়াশোনা করবে কী?
২. বড়ো হয়ে চাকরি পাবে কী কিম্বা প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে কী?
এই সব প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে 'মার্শম্যালো টেস্ট' নামে বিখ্যাত গবেষণায়। মার্শম্যালো ছোটোদের খুব প্রিয়। একটি কনফেকশনারী খাবার। চিনি, জল ও জিলটিন দিয়ে তৈরি করা হয়। ১৯৭২ সালে স্ট্যানডফোর্ড ইউনিভার্সিটি গবেষক ওয়াল্টার মিশেল মার্শম্যালো টেস্টটি করেন।
এই পরীক্ষার তিনটি পর্যায়ে ছিল।
প্রথম পর্যায় : চার থেকে ছয় বছরের কিছু বাচ্চাকে ভিন্ন ভিন্ন ঘরে চেয়ার টেবিলে বসিয়ে এক টুকরো মার্শমেলো দেওয়া হয়। বলা হয়, এটা না খেয়ে পনেরো মিনিট অপেক্ষা করলে আরেক টুকরো পুরস্কার হিসেবে পাবে। গবেষক ঘরের দরজা বন্ধ করে বাইরে বেরিয়ে এসে গোপনে বাচ্চাদের উপর নজর রাখেন। কিছু বাচ্চা পাঁচ থেকে দশ মিনিট অপেক্ষা করে খেয়ে ফেলে। কিছু বাচ্চা পনেরো মিনিট অপেক্ষা করে এবং তারা পুরস্কার হিসাবে আরেক টুকরো পায়।
দ্বিতীয় পর্যায় : দশ বছর পরে ওই বাচ্চাদের ইন্টারভিউ নিয়ে দেখা যায়। যারা যত বেশি সময় অপেক্ষা করেছে তাদের বুদ্ধিমত্তা, শিক্ষাগত যোগ্যতা অনেক ভালো। তাদের ওজন নিয়ন্ত্রণে। তারা মাদক বা নেশা জাতীয় দ্রব্য গ্রহণ করে না, ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ করে না। তারা আত্মবিশ্বাসী এবং আত্মনির্ভরশীল।
(ছোট্ট অপেক্ষা বা ধৈর্যের জন্য তাদের ভবিষ্যত উন্নততর হয়েছে।)
তৃতীয় পর্যায় : কুড়ি বছর পরে, সেই বাচ্চা গুলোর বয়স চল্লিশ। তখন তাদের ব্রেন স্ক্যান করে দেখা যায়। যারা কম সময়ে অপেক্ষা করেছিল, তাদের ব্রেনের ইমোশনাল অংশ বেশি কার্যকর। এবং যারা বেশি সময় অপেক্ষা করেছিল তাদের ব্রেনের লজিক্যাল অংশ বেশি কার্যকর। আর এরাই জীবনে পরিকল্পনামুখী এবং প্রতিষ্ঠিত।
এই পরীক্ষা প্রমাণ করে, যে বাচ্চা ভালো লক্ষ্যের জন্য সাময়িক বা তাৎক্ষণিক লোভকে সংবরণ শেখে। সে তার ভবিষ্যত জীবনকে উন্নত করতে পারে। সে জন্য সন্তানকে যে কোনো বিষয়ে অপেক্ষা বা ধৈর্য ধরতে শেখাতে হবে। তবে সে আগামী দিনে পরিকল্পনাধর্মী সফল প্রতিষ্ঠিত মানুষ হয়ে উঠবে।
(বি.দ্র. - শুধু বাচ্চারা নয়... আমরা বড়রাও যদি সমসাময়িক লোভ যেমন - ফাটকা কারবার, লটারি, ফাস্টফুড, নেশা জাতীয় দ্রব্য, অবৈধ যৌনতা ইত্যাদির পিছনে না ছুটে ভবিষ্যতের দিকে নজর দিতে পারি। তবে আমরা আরো সুগঠিত মানবিক বোধ সম্পন্ন মানুষ হয়ে উঠব।)
____________________________________________________________
প্রবন্ধ পড়ার জন্য অনেক শুভেচ্ছা ধন্যবাদ। সাথে থাকুন। পাশে থাকুন । ব্লগটিকে ফলো করুন। শেয়ার করুন। ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন