শুক্রবার, ২ জুলাই, ২০২১

বার নিয়ে কত রকমের মজা

       বার

                উৎপল মণ্ডল 

     দিদা ছিপ দিয়ে কইমাছ ট্যাংরামাছ ধরে আর বলে, আমার মেজো মেয়ের ছোটো ছেলে মানে ছোটো নাতিটা ছটফটানো মাছ খেতে খুব ভালোবাসে"। 

বার নিয়ে কত রকমের মজা

      বয়স্ক ভেঙে পড়া শরীরের দিদার জন্য আমার বুকের বাম দিকটা কই ট্যাংরার মতো ছটফটায়।

       মা, একে তাকে শোনায়, আমার ছোটো ছেলেটা শুধু শরীরে আর বয়সে বড়ো হয়েছে, কোনো সাংসারিক বুদ্ধি শুদ্ধি নেই। তবে এখনও আমার নেওটা।

           দিদি হাসে আর মাথা নেড়ে নেড়ে বলে চলে, ছোটো ভাইটা ক্লাসের বই তেমন পড়তে চাইতো না, কিন্তু দুনিয়ার কত গল্প কবিতা উপন্যাস পত্র পত্রিকা পড়ে তার ঠিক নেই, তাই ওর মাথায় কত রকম কথা ঘোরে, ও হাজারটা ঘটনার সঙ্গে মিল আছে এমন হাজারটা গল্প কবিতা গান বলতে পারে।

           দাদা খোঁজ নেয়, বাইরে যাচ্ছিস পকেটে টাকা আছে তো! টাকা নিয়ে যা দরকারে লাগতে পারে। দাদার খেয়াল থাকে না আমি অনেক দিন আগেই চাকরি পেয়েছি।

        বৌদি দাদাকে প্রেশার করে, তুমি ছোড়দাকে দাদাগিরিতে যাওয়া ব্যবস্থা করে দাওনা কেন, ছোড়দা চ্যাম্পিয়ন হবেই, টিভির ওই প্রোগ্রাম চলার সময় দেখোনি ছোড়দা ফটাফট্ প্রতিযোগীদের আগে উত্তর দিয়ে দেয়।

           আমার আট বছরের ভাইপো আমাকে আক্কা বলে ডাকে। ভাইপো ভাবে, আক্কার বয়স আর ওর বয়স সমান সমান।

          স্ত্রী বলে, লোকটা বাজার করতে জানে না,  পাকা বরবটি, শুটকো লাউ ডাঁটা, বোঁটকা পটল এসব গাদাগুচ্ছের হাজিবাজি এনে হাজির করবে। কিন্তু লোকটা ঝরঝরে লিখতে জানে।

          আমার দু বছরের মেয়ে জানে, বাবা তার সবচেয়ে মজাদার ও বাধ্য খেলনা পুতুল।

             দিদা মা দিদি দাদা বোদি ভাইপো স্ত্রী মেয়ে এরা আমার কাছে বাস্তবের 'পরি', তা যে কোনো সপ্তাহ মাস বছরের যেকোনো বার হোক না, ওরাই আমার পরি'বার।



       এক আত্মীয় বাড়িতে নিমন্ত্রণের গেছি অনুষ্ঠানের পরের দিনও জোর জবরদস্তিতে থাকতে হল। মাছ মাংস ভালো খাবারের জোগাড় হচ্ছে। তপেশমামা গাঁইগুঁই শুরু করল, আজ শুক্রবার আমার মাছ মাংস চলবে না, আমি জয়গুরুর মতে আছি। রুম্পাপিসী বলে আমার সন্তোষী মায়ের বার। সবিতাদি বলে আমি গোপাল সেবায় ব্রতী। প্রমীলা জেঠিমার একাদশী পালন। ল্যাও ঠেলা, বৌদি এসে বলে, ভাই তোমার কোন বার? উত্তর দিই, আমার বারের নাম "খা'বার"।


       জীতেনকাকার সঙ্গে রাস্তা দেখা হতেই খপ করে হাত ধরে বলে, ওরে ফুটকড়াই; বাংলা ভাষা নিয়ে তো ফুট  কেটে বেড়াস, আমি একটা চায়ের দোকান খুলেছি, তুই দোকানের জুতসই নাম বলতো। আমি অন্য হাতে মাথা চুলকে বলি, চা তো এক প্রকার নেশা বলতে পার। তাই নাম দাও 'চা-বার'।

       

        অন্বেষা কল করল, কি দরকার আছে অজয় নগর মোড়ে দাঁড়াতে হবে। গিয়ে দেখি ও হাল্কা সাজুগুজু করে অপেক্ষা করছে। বলে, চ্ i-BAR এ যাব দরকার আছে। আমি বলি, বারে যাব কি সাংঘাতিক! তার চে রেজিস্ট্রি অফিস, ছাতনাতলা, ফুলের শয্যা যে কোনো জায়গায় তোকে আমার KTM bike এর পিছনে বসিয়ে নিয়ে যেতে রাজি। ওইসব বারে গেলে ডিজে মিউজিক এ আমার হার্টবিট বেড়ে যায়। ও বলে, ছ্যাবলামি করিস না। এক ইঞ্জিনিয়ার পোলা আমার পা চাটতে বাকি রেখেছে! আমি কথাটা লুফে নিয়ে বলি, তাহলে কোন কোন জায়গা চেটে ফেলেছে!! অন্বেষা আড়া চোখে আমার দিকে তাকিয়ে ভেংচি কেটে বলে, চেটে ফেলেছে বাবার মাইনাস পাওয়ার এর চশমা আর মায়ের গ্রেভি লেগে থাকা খুন্তি। বাজে বকাস না, চল রে ভাই i-bar এর ক্যাশ কাউন্টারে আমার পিসির ছেলে রৌনকদা বসে, ওর সাথে দেখা করেই চলে আসব, চ্...। 

          কয়েক দিন পরে অন্বেষার আবার কল, একই দরকারে বারে যেতে হবে। গেলাম। বার থেকে বেরিয়ে অন্বেষা জিজ্ঞেস করল, বারের এই আলো ঝলমলে ঝাক্কাস পরিবেশ তোর কেমন লাগে।

         উত্তর দিই, যেভাবে রোজ রোজ আমাকে বারে আনছিস, তাতে একটাই কথা বলতে পারি, 'বারবার' লাগে। 



        একবার এক গভীর বনে বট্টু লট্টু নামের দুই বানর সুগভীর আলোচনা করছিল।

        —বলতো লট্টু, আমাদের বন্য প্রাণীদের মধ্যে কে সবচেয়ে বেশি বার খেয়েছে? 

         —বট্টু, সহজ উত্তর হল জিরাফ। অন্য প্রাণীরা বার খাইয়ে খাইয়ে তো জিরাফের গলা এতো লম্বা উঁচু করল। 

          —ঠিক ঠিক, জিরাফ চোরের মা নয়তো! শুনেছি চোরের মায়ের বড়ো গলা.... 

          খিক্ খিক্ হুপ হুপ হুপ হুপ... 


           অপরেশদা, তুমি এ্যামন কালো রাগা ঢ্যাঙা টাকলা কিন্তু অমন সুন্দরী বৌদি জোটালে কি করে কও তো? 

         —শোন তবে বহুদিন আগের সে মজার কথা বলি, তোর বৌদিদের পাড়ার ক্লাব সঙ্গে আমাদের ক্লাবের ধুন্ধমার ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়ে ছিল। উভয় পক্ষের সব প্লেয়ার অবিবাহিত। তোর ফুটবল খেলা প্রেমী অবিবাহিত বৌদি বান্ধবীদের কাছে বাজী ধরে ছিল ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ কে বিয়ে করবেই। 

             খেলা পেনাল্টি শুট, মানে ট্রাইবেকার পর্যন্ত গড়ালো। আমি গোলকিপার ছিলাম, একটা বল সেভ করার পরও ট্রাইবেকার এমন পজিশনে এলো যে শেষ বলটাকে আমায় সেভ করতেই হবে। বিপক্ষের খেলোয়াড় শেষ বলে শট করেছে বল উঁচু হয়ে আমার মাথার উপরের বার পোস্ট ঘেঁষে ঢুকতে যাচ্ছে, আমি দ্রুত গতিতে উপরের বাঁশের তৈরি বার ধরে হাল্কা ঝুলে পড়লাম। বলটা বারের ইঞ্চি খানেক উপর দিয়ে হুস করে বেরিয়ে গেল। ম্যান অফ দ্য ম্যাচের মেডেল গলায় ঝুললো আর জুটলো সুন্দরী বৌ। ওই বারের কেরামতি। 



পুনশ্চ : অন্বেষার gmail পেয়েছি। মেইলের সারমর্ম, এই আঁতেল আমি তোকে কবে বারে নিয়ে গিয়ে ছিলাম! শ্লা আড়ংবাজ টালখোর মাতাল, রোজ তো গিলে বাড়ি ফিরিস। 

     আর, 

   বট্টু বাঁদর facebook messenger এ video call করে বলেছে, এক ঝুড়ি 


bourbon biscuit পাঠাতে। 

_____________________________________________

রম্যরচনাটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ। ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।


২টি মন্তব্য: