মঙ্গলবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

Blueprint এবং Urgency (কবিতা / poem)

 ব্লু প্রিন্ট 

Blueprint

               উৎপল মণ্ডল 


গ্রামের মজে আসা খালের উপর, 

হাওড়া ব্রিজকে তুলে এনে বসালাম। 


মিউজিয়ামটাকে রাখলাম, আমার ভাঙাচোরা

মাটির ঘরের সংকীর্ণ জায়গায় ।


যেখানে পুকুর সহ বাগান বাড়ি ছিল, 

ওখানেই রাখছি  ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল।


এলাকার যৌথ পশুচাষের খামারে 

Alipur zoo কে ঢেসেঢুসে ঢোকালাম । 


অনিমাদের বাড়ির উঁচু নারকেল গাছ উপড়ে, 

সেখানে শহীদ মিনার টাকে দাঁড় করলাম। 


তারক মন্ডল, মাগা সর্দার, ফুলচাঁদ মুর্মুর

ধানজমিতে ইডেন গার্ডেনকে বিছালাম। 


পাড়ার উত্তর দিকের চৌরাস্তার মোড়ে, 

ধর্মতলাকে ভিড়সহ স্থাপন করলাম। 


এবার, এই গ্রামের নাম দিয়েছি---

                                   কলকাতা শহর। 


আর, আমি চললাম ম্যানগ্রোভ অরণ্যে

সভ্যতার খোঁজে, সভ্যদের খোঁজে। 


তবে হ্যাঁ, 

রেখে যাচ্ছি আমার সব পোষাক পরিচ্ছেদ

ওই স্থাপত্য শিল্প মুছতে দরকার লাগবে।

                                                কি বলো! 

-----------------------@-------------------------------


তাড়া

Urgency

******

সংযুক্তার সব কিছুতে তাড়া ছিল।

   আইসক্রিম কামড়ে খেয়ে নিতো।

   পোশাক প্রসাধনি কিনতে গিয়ে, 

দু - চারটে দেখলেই পছন্দ।

                   চুলে ক্লিপ ফটাফট লাগানো, 

                         দ্রুত রেডি  হওয়া----

   অপেক্ষার জায়গায়, দশ মিনিট আগে পৌঁছে যাওয়া-----

   

        কলেজ পাশ করার ছ'মাসের ভিতর, বেসরকারি চাকরি জোটানো----


   এক বিয়ে বাড়িতে আলাপ। 

         রেশ কাটতে না কাটতেই প্রপোজ , 

জগৎ সংসার উল্টে দিয়ে, বিয়ের পিঁড়িতে বসার চট জলদি আয়োজন।


বিয়ের পরপরই, এক জোড়া শিশু ছেলে

মেয়ের নামকরণ জামা প্যান্ট কিনে রাখা।


রাস্তায় রেড সিগন্যালে দাঁড়িয়ে 

অস্থির ভাবে পা বাড়াতে চাইতো।


শপিংমলে কিম্বা কোন অফিসে গেলে

 লিফ্ট নয় তো এস্কেলেটর খুঁজতো।


নিজের টুকরো ইচ্ছা পূরণের জন্য ব্যাঙ্কে 

কয়েকটা শর্ট টার্ম সঞ্চয়ও খুলেছিল।


                  সবকিছুতেই ব্যস্ততা!


এই ব্যস্ততার মধ্যেও পুঁষে রেখেছিল

                  ধি

                     কি

                        ধি

                           কি

                              জ্বর,

                              কাশি ও

      নাক দিয়ে রক্ত পড়ার মতো উপসর্গ।

তাই সংযুক্তা, বিয়ের তিন মাসের মধ্যেই

                হসপিটাল ঘুরে সোজা শ্মশান।

              

             এ রাস্তাটাও খুব শর্টকাট ছিল।


এখন শরীরের সব তাড়াহুড়ো নিথর।  


শুধু আমাকে তাড়া করে চলেছে, 

    সংযুক্তার ফেলে যাওয়া অপূর্ণ স্বপ্নগুলো----

_______________________________________

কবিতা দুটি পড়ুন। ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন।







৪টি মন্তব্য: