![]() |
| কৈ মাছ |
রাতেরবেলা প্রবল ঝড়-বৃষ্টিতে ঝাঁকের কৈ হয়ে পুকুর থেকে উঠে এলাম। দুই চোয়ালে ভর দিয়ে পুকুরপাড়, বাঁশতলা ও আল পেরিয়ে মাঠে নামলাম। দিগন্ত বিস্তৃত ধান চাষের মাঠ। এই বৃষ্টিতে গোছ ডোবানো জল। তখন আমার আনন্দ কে দেখে ! বদ্ধ জলাশয় থেকে মুক্তির আনন্দ ।
কিন্তু না আনন্দ ক্ষণস্থায়ী । আমার গায়ের উপর তীব্র আলো এসে পড়ল। সঙ্গে চিৎকার 'ইউরেকা ইউরেকা পেয়েগেছি'। মনে হল যেন আমারই কণ্ঠস্বর । বহুকাল আগে গুহাবাসী আমি পশু শিকার করার আনন্দে এমন চিল চিৎকার করেছি ।
আলো ও চিৎকারের সঙ্গে সঙ্গে একটা তীক্ষ্ণফলা আমাকে এফোঁড় ওফোঁড় করে দিল। এরপর শিকারি বাড়িতে এসে বউয়ের হাতে মুঠোয় আমাকে দিয়ে দেয় ।
শাশুড়ি বললেন, "বৌমা এটা নতুন জলের উজানো কৈ, গা বড্ডো হাড়হড়ে। ছাই দিয়ে ধরে কেটেকুটে ধুয়ে বেশি নুন হলুদ লঙ্কার গুঁড়ো দিয়ে ভাজবে। নইলে এই নতুন জলের মাছের তেমন স্বাদ হয় না।"
আমি রক্তাক্ত শরীরে বাঁচার জন্য ছটফট করছি । বউটা ছাই ভরা শক্ত হাতে বটিতে ঘসে ঘসে আমার আঁশ ছাড়ালো। দুই শক্ত চোয়াল ওড়ালো।পেটের নাড়ি ভুঁড়ি বের করল এবং ধুয়ে কষে নুন হলুদ লঙ্কাগুঁড়ো মাখিয়ে রাখল। তারপরে শাশুড়ির দিকে মিটমিটিয়ে হেসে বলল, "মা দেখুন কৈ মাছের প্রাণ। এখনো ছটকাচ্ছে।"
শ্বশুর ফরমাস করলেন, "বৌমা আজ একটু তেল কৈ করো। কতদিন খাইনি।"
আজ সকাল সকাল বাজারে কৈমাছ কিনতে গেলাম। মাছওয়ালা বলে, "দাদা ব্যায়াকগা কইমাছ কাল র্যাইতে হাতে ধরি ল্যাইসিঠি। অতবা আঠশোর কমে হব্বেনি।"
দাম শুনে আমি বাজারে জমা অল্প জলে মাছের মত ছটফট করছি।
_______________________________________

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন