রবিবার, ২৭ জুন, ২০২১

Disaster Management (Short story/ ছোটো গল্প)

    ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট 

Disaster Management 

                                       উৎপল মণ্ডল 

Disaster Management (Short story/ ছোটো গল্প)


    রেশমি, ঠোঁটের মৃদু চাপে সিগারেটের ফিল্টারটা লিপস্টিকের লালে রাঙিয়ে আমার দিকে বাড়িয়ে দিল। পাশে বসে থাকা নয়ন্তিকা, শান্তশ্রী, অরুময়, সমরেশ সবাইকে একপলক দেখে নিয়ে মুচকি হেসে আমাকে কোনুইয়ের গুতো মেরে বলল, 

         — বল্ নাহ্ ;   আমাদের কলেজ ক্যাম্পাসের  প্রথম মিটাপের সিনক্রিয়েটটা...


  সিগারেটের ধোঁয়া উদ্ধপানে ঘোরালো করে ছেড়ে দিয়ে বলি,

                —কলেজের প্রথম দিনে আমি অফিস বোর্ডে চিপকানো নোটিশ পড়ছি। একজন ঝড়ের মতো এসে জানতে চাইলো, ইংলিশ ডিপার্টমেন্ট কোন‌ দিকে। উত্তর দিই, ম্যাডাম আমি ইংরাজিতে জনম কাঁচা, তাই ও ডিপার্টমেন্ট কোন দিকে জানি নে।  আমার বিভাগে যেতে চাইলে আমার লগে চলেন‌। এইবার শুরু হল দমকা ঝড়ের বাক্যবাণ। গাঁইয়্যা ভূত, অভদ্রতার গন্ধ বেরোয় গা থেকে, বুনো পাব্লিক... বাপরে যেন ছ'গজি পিয়ানোর উপর আঙুল চালানোর ঝড় উঠেছে ‌।

            বন্ধুরা একসাথে বলে উঠলো, কে  বে মালটা?

    রেশমির দিকে তড়িৎ গতিতে বাঁ'চোখ মেরে বলি; নাম রেশমি দে, ইংলিশ ডিপার্টমেন্ট , সেকেন্ড ইয়ার। 

    সবাই রেশমিকে নিয়ে মেতে উঠল। রেশমি সব মজা মেখে বলল, 

               —এই এক দেড় বছরে বুনো পাব্লিক বাবুটির উন্নতিটা তোরা দ্যাখ, আমার লিপস্টিক লাগানো সিগারেট ছাড়া বাবুর চলে না। আর গিটার 🎸 হাতে ক্যাম্পাস থেকে ক্যান্টিন থেকে বইমেলার ফুটপাত পর্যন্ত ঝড় তুলেছে।  এবারের কলেজ ফেস্টের প্রধান আকর্ষণ গিটারিস্ট লিরিক্সিস্ট ভোকালিস্ট সজল রায়‌।

           আমি ততক্ষণে প্রেমের রাজধানী গিটারে সুর জাগাচ্ছি, গাইছি...

        "তোল তুফান বুকে বুক মিশিয়ে। রেশমি, তোকে ছাড়া মিথ্যে যে গান গাওয়া..."


***********************************

       এঘটনার এক বছর যেতে না যেতেই রেশমির জরুরি ফোন, 

           — বিকাল চারটেয় বালিগঞ্জ ফাঁড়িতে আস্, কথা আছে ‌। 

           গলায় ঝড়ের গতি। বন্যার আবেগ। বিপর্যয়ের উৎকন্ঠা।


***********************************

        

           আবার এক বছর পর রেশমি কে ফোন করেছি...

  ‌           —হ্যালো রেশমি, ক্যামোন আছিস.... আরঃ- আমার কথা... তোর তো কোনো ভালো করতে পারিনি... সেদিন বালিগঞ্জ ফাঁড়িতে দ্যাখা করে কান্নাকাটিই সার হল.. শুধু কফি শপে বিল বেড়ে ছিল.. তোর বিয়েটা আটকাতে পারিনি.. আচ্ছা তোর হাজব্যান্ড তো বেলেঘাটা ইউবিআই ব্যাঙ্কের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার... একটু বলে কয়ে দ্যাখ না.. একটা লোন করে দিতে পারে কিনা.... আমি গিয়ে দ্যাখা করবোক্ষণ... তুই তো আমার আর্থিক অবস্থা জানিস... এ মাসেই শান্তশ্রীকে বিয়ে করেছি... ও পার্লার জানতো.. এখন 35 বি  বাস স্ট্যান্ডেরের কাছে ওর জন্য একটা বিউটি পার্লার খুলে দেব ভাবছি... লোনটা খুব দরকার বুঝলি... একটু বোওওলিস রেএ... 

               —বলে দেব... শান্তশ্রীকে বিয়ে করেছিস... ও খুব ভালো মেয়ে.. বেশ চাপা স্বভাবের...তবে একগুঁয়েমি আছে... তোর গিটার-গান-সিগারেট ছাড়িয়ে দিতে পারে, কিন্তু.... 


************************************

         

             দেখতে দেখতে আবার এক বছর কোথা দিয়ে কেটে গেল। রাত দশটা বেজে  গেছে শান্তশ্রী এখনও ঘরে ফেরেনি। তার ফোনেও কল ঢুকছে না । অনেক রাতে মোবাইল জেগে উঠলো। টেক্সট ম্যাসেজ ...

                — "আমি আর ফিরব নাহ্, আমাকে ফেরাতেও চেষ্টা করিস নাহ্। রেশমির বিয়ে হয়ে যাওয়ায় পর তুই ভেঙে পড়েছিলি, তোর শান্তনাদাত্রী ছিলাম আমি। তারপর আমাদের ঝটিকা প্রেমের প্লাবন রেজিস্টি ম্যারেজ পর্যন্ত গড়ালো । কিন্তু দিনেকেদিন তোর প্রেমের গতিপথ প্রাক্তনীর দিকে চলে গেছে। তার সঙ্গে ফোনে ঘনঘন কথা বলায় ঘর ভাঙা ভূমিকম্পের ইঙ্গিত পেতাম। অনেক হয়েছে, এবারসডিভোর্স পেপারে সই করেই, চুকেবুকে যাক সব...। নিজের খেয়াল রাখিস। আমি আপ্রাণ ভালো থাকার চেষ্টা করব।"

       

        কীভাবে ভেঙেচুরে যায় আমাদের ঘরবাড়ি - সংসার ! আর মানুষ! মন! তার হদিস বাতলাবে কে?

             ইগনু ওপেনে ইউনিভার্সিটিতে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট কোর্সে ভর্তি হয়েছি। চলছে স্বনির্ভর হতে টিউশন পড়ানো ও চাকরি জোটানোর পড়াশোনা। আর আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ায় শরীরচর্চা। এবার ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েনে কাটিয়ে দেশের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরে সজল রায়ের নাম লেখাতেই হবে।

-------------------------------------------------------------

গল্পটি পডুন। পাশে থাকুন। সুস্থ থাকুন। ভালো থাকুন। 

৫টি মন্তব্য: